ছোটবেলা থেকে মামাবাড়ি বলতে বুঝতাম দিল্লীর বাড়ি। তিন মামা-মামি ভাই বোন...সে এক জমজমাট ব্যাপার। কিন্তু কলকাতায়ও একটা মামাবাড়ি ছিল আমার। মায়ের গুরুজীর বাড়ি। ও বাড়িতে বাড়ির লোকেরাও তাঁকে গুরুজী বলেই সম্মোধন করে ফেলতেন আনেক সময়। কিন্তু মা তাঁকে মানসদা ডেকে এসেছে চিরকাল। আর আমরাও মানসমামা। পন্ডিত মানস চক্রবর্তী তিনি, অথচ আমার কাছে তখন তিনি কলকাতার একমাত্র মামা। ছোটবেলায় মায়ের কাছে গান শিখতে বসতাম ঠিকই, কিন্তু গেঁয় যোগী ভিখ্ পায় আর কতদিন। মাঝে মাঝে মা অভিমান করে বলে গুরুর থেকে যা পেলাম তোদের কিছুই দিয়ে যেতে পারলাম না। সেই শুনে আবার সাত দিন চললো রেওয়াজ। আবার যেই কে সেই। কিন্তু কোথায় যেন মানস মামা আর মায়ের একটা প্রভাব নিজের অজান্তেই নিজের মধ্যে চলে এসেছে অনুভব করি। একটি ফিল্ম ও সম্পূর্ণ আলাদা গল্পের একটি নাটকের দুটি চরিত্রের হাব-ভাব,বেশভূষায় অদ্ভুত মিল পেয়েছিলাম। পরে জানতে পারি মাধ্যম ও গল্প আলাদা হলেও লেখক একই। সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মা কে বলছিলাম যে একই রাগের দুটো সম্পূর্ণ আলাদা সুরের গানে যেমন একটা যোগ থাকে তেমন বিজয় দান দেথার লেখা গল্প "দুবিধা" (যেটার অবলম্বনে আমোল পালেকর এর "পেহলী" ছবিটি হয়েছিলো) আর "চরণদাস চোর" এর দুটি চরিত্রে একটা যোগসূত্র পেয়েছিলাম। লেখক মিলে যাওয়ায় বুঝেছিলাম আমার মনে হওয়াটা অমূলক নয়। মা শুনে বললো..."আমার মেয়ের তো এরকম ব্যাখ্যাই আসা উচিত।"
আজ মানস মামার জন্মদিন। অত বড় মাপের শিল্পীর কোলেপিঠে চড়ে শইশব কাটানো যে কি পাওয়া তা তো তখন বুঝিনি! এখন বুঝি মানস মামার গান ছোটবেলা থেকে কানে যাওয়াটাও একটা বোধ তৈরী করে। আজও বেসুরো গান শুনলে শরীরটা বেশ খারাপ লাগে। মা - বাবা সম্পর্কে যেমন তিনি-আপনি করে কথা বলতে পারিনা তেমনি মানসমামার ক্ষেত্রেও নয়। এখনও সুরমন্ডল দেখে বলে উঠি এটা মানসমামা বাজায়... ওই গানটা মানসমামা গায়। বলতেই পারি না গাইতো, বাজাতো। সত্যিই তো মানসমামা এখনও গাইছে...তাঁর গলা তো প্রকৃতির থেকে আলাদা করে শোনা যেত না...আজও প্রকৃতিতেই মিশে আছে...হয়েতো আরও বিশ্বায়িত হয়েছে সেই সুর...তাঁর কন্ঠেই ভেসে আসছে কানে "যেখানেই থাকো শুধু ভালো থাকো...চলে যাও যাও...ফিরে দেখো কোনদিন..."
No comments:
Post a Comment