Friday, August 19, 2016

বন্ধু কে না পাঠানো চিঠি

বন্ধুত্বের দিনটার আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে গিয়েও পাঠানো হলো না কয়েকটা চিঠি... মনে পড়ে গেলো অনেক গুলো মুখ যেগুলো ভুলিনি কখনো তবু আলাদা করে খুব মনে হয় বিশেষ দিনে আর জীবনের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে... আজ তেমনই এক বন্ধুকে না পাঠানো চিঠি পোস্টালাম। জানি না ঠিক ঠিকানায় পোস্ট হবে কি না...
তুই খুব ভালো অভিনয় করলে খুব গর্ব হত, একটু খারাপ করলেই খুব কষ্ট। এখনও ভালো অভিনয় করলে আনন্দই হয়। কিন্তু খারাপ অভিনয় আর কষ্ট দেয় না। মনে হয় আমার কি! আমার কাছে তো আর জানতে চাইবি না।
যে ইউনিভার্সিটি থেকে সন্ধ্যের আগে বাড়ি ফেরার নাম নিত না সে নাকি ছুটে ছুটে দুপুর দু’টোর রোদ পেরিয়ে বাড়ি ফিরতো তোর দুপুর বেলার সিরিয়াল দেখে রিভিউ দিতে হবে বলে ...কালের মহিমায় এখন সেই দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তি পেয়েছি। ভালো লাগলে বলি, খারাপ লাগলে চেপে যাই। সব **-এর সিরিয়াল গুলো নিয়মিত দেখেছি তোর জন্য। সে নিয়ে কোন আফসোশ ছিলো না যতদিন না তোর মুখে শুনলাম আমি নাকি তোর সমালোচনা নিতে পারবো না। এই অভিযোগটা আমার কোন অভিনেতা বন্ধু বিশ্বাস করবে না...যারা আমাকে দু দিন চেনে তারাও না। আর তুই তো আমার এত বছরের বন্ধু! যাক্‌ গে সে কথা।
নিজে অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি সমালোচনা করা খুব সহজ। অনেকের অভিনয় দেখে মনে হত scene টা আমি পেলে ফাটিয়ে দিতাম। নিজের অভিনয় দেখেও মনে হল এই মেয়েটার থেকে আমি অনেক ভালো অভিনয় করি। তেমনই তোর আভিনয় দেখেও যখন মনে হত তুই এর থেকে অনেক ভালো...না বলে পারতাম না। আমার বলার সেই চিরকালীন ধরনে হয়েতো তাচ্ছিল্য প্রকাশ পেয়েছে আর অসম্পূর্ণ প্রকাশ ক্ষমতার নীচে চাপা পড়ে গেছে তোর প্রতি আস্থা, তোকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার আকাঙ্খা। এখনও অনেকেই এই কারণে দূরে সরে যায়। কিন্তু আমি পাল্টাই না, না কমে যায় আমার বন্ধুত্ব। একটা সময় নিজের বন্ধুদের নিজেরই হিংসে হত...মনে হত উফ্‌ কি lucky, আমার মত বন্ধু পেয়ে গেল! এখন অনেক ভালো বন্ধু পেয়ে পেয়ে আস্তে আস্তে সেই অহঙ্কারটা কমছে...
আমার একটা সংস্কার আছে, কুসংস্কার ও বলতে পারিস। কেউ খাঁটি ভালোবাসা থেকে আমাকে কিছু দিলে সেটা বহু বছর অক্ষয় থাকে আর যখনই কেউ কিছু দেয় কোন কিছুর বিনিময়ে, বা দিতে হবে ভেবে... সেই জিনিসগুলো ঠিক টেকে না।সোনামামু মেলা থেকে পাঁচ টাকার একটা টেরাকোটার দুল কিনে দিয়ে বলেছিলো এত সস্তা, পাঁচ দিনও টিকবে না। সোনামামু দশ বছর হয়ে গেলো চলে গেছে। ওই টেরাকোটার স্মৃতিটা কিন্তু এখনও ভাঙেনি। আর তোর Friendship Day te দেওয়া “Friends Forever” লেখা শো পিস্‌টা প্রায় বারো বছর পরও ভাঙেনি ঠিকই, কিন্তু আঠাগুলো আল্‌গা হয়ে Friends আর Forever টা কেমন আলাদা হয়ে গেছে। জোড়া লাগানোর দায়িত্ব তো এখন আমারই, কেউ এসে তো জোড়া দিয়ে যাবে না। তাই না পাঠানো চিঠিটা ডিজিটাল মেঘে ভাসিয়ে দিলাম। শো পিস্‌ আর সম্পর্ক দুটোরই বোধ হয় জোড়াতালির প্রয়োজন। প্রথমটার অন্তরায় আলস্য, দ্বিতীয়টার EGO. দুটোই আছে...হয়েতো থাকবেও... 
 
বন্ধুত্বটাও কিন্তু আছে বন্ধুত্ব দিবস পেরিয়েও...
 
আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও...

No comments:

Post a Comment